Wednesday, March 27, 2024

অবাক করা কষ্টের কথা ফেসবুকের জন্য


কষ্টের কথা আমাদের সকলের টিনেজার লাইফে নানান ধরনের কষ্ট পায় কিন্তু সব কষ্ট আলাদাভাবে হয় বেশিরভাগ মানুষকে কষ্ট দেয় ভালোবাসা। কিন্তু সব ভালোবাসার দুঃখ কষ্ট মানুষকে কাঁদায় না আরো শক্তিশালী করে তোলে। এসব কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য আমাদের এই পোস্টটিতে কষ্টের কথা কিছু শেয়ার করা হয়েছে যদি তোমাদের খুবই ভালো লাগে তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকে শেয়ার করতে পারেন আর কমেন্ট করে যেতে জানিত্ত।

কষ্টের কথা

1. ভালোবাসা চিরদিনই বেঁচে থাকে
কখনো কবিতা হয়ে, কখনো গল্প হয়ে,
কখনো স্মৃতি হয়ে, কখনো
আবার, কারো চোঁখের জল হয়ে


2. পাথর চাপা কষ্ট বুকে,,
কষ্টের কথা বলি কাকে??
যার কারনে নিস্ব হলাম,,
সেইতো আছে বেশ সুখে,,
আর আমার কথা ভুলেই গেছে..!!

কষ্টের কথা

3. একটি গাছে দুটি পাখি বেধে ছিল বাসা,
সে বাসাতে থাকবে বলে করে ছিল আসা।
হঠাত্‍ এক দিন ঝর এসে ভেঙ্গে দিল বাসা।
সে দিন থেকে ভেঙে গেছে আমাৱ ভালোবাসা


4. পাখি তুই বুঝলি নারে আমার মনের কথা।
বুঝার মতো হয়নি তর ক্ষমতা।
বুঝবি সেদিন যে দিন আমি থাকবো না যাবো মরে।
তখন সারাজীন কেদে যাবে পাবেনা আমায়।


5. তোমার দেওয়া ভালোবাসার কারণে আমার জীবন থমকে দাড়িয়েছে।
এমন তো কথা ছিলো না তবে কেনো তুমি আমার
সাথে এমন করলে? জানি তুমি আমার কথার
জবাব দিতে পারবে না। তবু ও বলবো ভালো থেকো।


6. আজ আমি বৃস্টিতে ভিজেছি আর মন খুলে কেদেছি।
কেউ বুজতেই পারেনি যে আমার চোখ থেকে গরিয়ে পরেছে বৃস্টির জল নাকি চোখের জল।
তাই তো বৃস্টি এলেই আমি নিজেকে ভাসিয়ে দেই বৃস্টির জলে।


7. কাল সারারাত তোমায় ভেবে কেদেছি,
তোমায় ছাড়া থাকতে হবে তা মেনে নিয়েছি।
তুমি সুখে থাকো আমায় ছাড়া,
এর বেশি কিছু চাইনা আর ..

কষ্টের কথা পিকচার

8. আকাশের কষ্ট গুলো মেঘ হয়ে ভাসে_
মেঘের কষ্ট গুলো বৃষ্টি হয়ে আসে_
পাথরের কষ্ট গুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে পরে_
আর মনের কষ্ট গুলো অশ্রু হয়ে ঝরে..


9. যেদিন আমি হারিয়ে যাবো,,
সেদিন তুমি বুঝবে..
হাজার লোকের ভিড়ে সেদিন,,
আমায় তুমি খুজবে..
সেদিন তুমি পাবেনা আর এই আমাকে,,
পাবে শুধু ফেলে আসা স্মৃতিগুলোকে,,
কষ্ট হয়ত তোমার বুকে আচড় কেটে যাবে..
কদিন গেলেই তুমি আবার নতুন সাথি পাবে..!!


10. “ছোট্ট একটি মিথ্যা বলে কাউকে হারানো টা খুব সহজ।
কিন্তু ,তাকে হাজার টা সত্য বলেও ফিরে পাওয়া টা অনেক কঠিন”


11, তোমাকে বলছি। আমার দেওয়া ভালোবাসা ফেরত দাও।
তোমার দেওয়া কস্ট গুলো ফেরত নাও।
তোমার দেওয়া সৃতি গুলো
মুছে দিয়ে যাও।
আমি মুক্তি চাই,
শুধু মুক্তি চাই।

কষ্টের কথা এস এম এস

12. কষ্টে ভরা জীবন আমার,
দুঃখ ভরা মন,
মনের সাথে যুদ্ধ করে..আছি সারাক্ষণ।
তাঁরার সাথে থাকি আমি,
চাঁদের পাশাপাশি,
আজব এক ছেলে আমি.. দুঃখ পেলেও হাসি।


13. এগিয়ে গিয়েও পিছিয়ে আসি
পেরোতে চাই না একা.
এই পথের নাম পাবে নিজের দাম..
তুমি একবার দিলে দেখা


14. জানি না হাঁরিয়ে গেছো কোন দূর অজানায়…
জানি না কি ভূল ছিল আমার ভাবনায়…
তাই পেয়েও হাঁরিয়েছি আজ তোমায়…


15. সুখী মানুষের কাছে সবাই যায় ।
দুখী মানুষের কাছে
কেউ যেতে চায় না ।
দু:খ থেকেই দু:খের জন্ম হয় ।


16. আমি জানি আমি
তোমাকে খুব বিরক্ত করি
কিন্ত যেদিন আমি তোমাকে
বিরক্ত করবো না সেদিন তুমি আরও
বেশী বিরক্ত হবে!!


17. পৃথিবী অনেক সুন্দর হয়
যদি সুন্দর চোখে দেখা যায়।
জীবন অনেক সহজ হবে
যদি তা তুমি সহজে গ্রহণ কর


18. যদি দূ:খ দাও তবে মনে করবো তোমার ভালোবাসা ছিলো
মিথ্যা কিন্তু এত দু:খ দিয়েছো
আমায় ছেড়ে সারা জীবনের জন্য চলে গেছো মাটির কবরে


19. যারা খুব কাঁদতে পার,,
তাদের সবচেয়ে বড় লাভ হচ্ছে
তাদের মনে কষ্ট তেমন জমে না..
অথচ যারা মন খুলে কাঁদতে পারে না,,
তাদের মনটা হল,, “কষ্টের আকাশ”


20. মাঝে মাঝে কাঁদাবো,,
হয়তবা রাগাবো..
একদিন হটাত্‍ করেই হারাবো,,
চিরতরে ঘুমাবো..
আমি যে তোমার কেউ ছিলাম,,
একদিন তোমায় ভাবাবো..!!


21. যে মানুষ হাজার কষ্টের মাঝেওতার
প্রিয় মানুষ টিকে মনে রাখেসে সত্যিকার
অর্থে ঐ প্রিয় মানুষটিকে ভালবাসেসে
তাকে কখনো ভুলতে পারে না


22. কাউকে ভাল লাগার পূর্বে হাজার বছর দূরে থাকা যায়।
‘কিন্তু, কাউকে ভাল লাগার পরে এক মূহুর্ত দূরে থাকা যায় না।


23. হৃদয়ে যতন করে রেখেছিভালবাসায় ধরে রাখব তোমায়,
হারিয়ে যাবে না কভু আমায় ছেড়েদূর অজানা ঐ দিগন্তের কোথায়..।


24. ভালবাসা সবার জীবনেই আসেকেউ ধরে রাখতে পারে,
আবারকেউ হারিয়ে ফেলে, ধরে রাখে চোখের জলে


25. আমি চাইলেই তোমার জীবনকে দুখের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারতাম।
শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে সেটা পারিনি।
কিন্তু তুমি পেরেছো কারণ তুমিতো আমাকে কখনো ভালোবাসনি।

Tuesday, March 26, 2024

একটি সত্যি ভালোবাসার কষ্টের গল্প


 

মেয়েটির সাথে ছেলেটির সম্পর্ক আজ প্রায় ৫ বছর।

ছেলেটি মেয়েটিকে একদিন একটি বারবি ডল উপহার দিয়েছিল।
ছোট্ট একটা কোম্পানিতে সামান্য কিছু বেতনে চাকরি করতো বিধায় ইচ্ছা থাকলেও বড় কিছু কিনে দেবার সামর্থ্য ছিল না তার।ছেলেটি ভাবতো সে যদি মেয়েটিকে বিয়ে করে তবে সারা জীবনেও তাকে ঐশ্বর্যের সুখ দিতে পারবেনা।
হঠাৎ কোনও এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় মেয়েটি সেই ছেলেটির বাসার সামনে এসে হাজির।মেয়েটি বললো,আগামি কাল সন্ধ্যায় সে তার বা মার সাথে প্যারিসে চলে যাচ্ছে এবং সেকোনও দিনও ফিরবে না।সুতরাং তাদের সম্পর্ক আজ এখানেই শেষ।ছেলেটি কি বলবে বুঝতে পারছিলো না,তবে চোখের পানি সামলে নিয়ে শুধু আস্তে করে বললো“ঠিক আছে”
পরদিন সন্ধ্যা…

আজও গত দিনের মতো বৃষ্টি হচ্ছে।ছেলেটি এক কাপ চা হাতে বারান্দায় দাড়িয়ে ছিল। হঠাৎ খেয়াল করে দেখলো দূর আকাশে একটি প্লেন ভেসে চলেছে।গন্তব্য জানা না থাকলেও ছেলেটি বিড় বিড় করে আপন মনে তার ভালবাসার মানুষটিকে দূরথেকেই গুড বাই জানালো।

রাত ১ টা…

ছেলেটি ঘুমোতে পারছে না।কয়েক ডোজ ঘুমের ওষুধ খেয়ে চোখ মুখ জ্বালা করছে তবুও ঘুম নেই।যেই মানুষটিকে ভেবে ভেবে সে প্রতি রাত পার করেছে,যাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে তার প্রতিটি সকাল হয়েছে সেই মানুষটি তাকে ছেড়ে চলে গেছে স্পষ্টই বুঝতে পারছিলো সে,নিজের কাছে কিছু সত্য ভালবাসা ছাড়া আর এমন কিছুই ছিল না যার মাধ্যমে সে তার ভালবাসাকে আঁকড়ে রাখবে।

ঐশ্বর্যের ­ভেতরে থেকে যে মানুষ হয়েছে সে কেন মনের আবেগে অন্ধকারে পা দেবে,কথা গুলো ভাব­তে ভাবতেই ছেলেটি মন শক্ত করল।যে ঐশ্বর্যের টানে মেয়েটি আজ তাকে ছেড়ে চলে গেলো একদিন সমপরিমান ঐশ্বর্য নিয়েই সে মেয়েটির সামনে হাজির হবে।

কঠোর পরিশ্রম আর নিয়তির নির্মম পরিহাসে ছেলেটি আজ অঢেল সম্পত্তির মালিক।নিজস্ব কোম্পানি,আর লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি নিয়েসে আজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত সেই মেয়েটির সামনে হাজির হতে।

আজও সন্ধ্যা হয়েছে,আকাশ মেঘ করে অঝোরে বৃষ্টি নামছে,ঠিক যেনসেই দিনের বৃষ্টি যেদিন তার ভালবাসা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো-আনমনে এ সব কথা ভাবতে ভাবতে গাড়ি চালাচ্ছিলো ছেলেটি।

এয়ারপোর্ -­ ­ ­ ­ট রোড,রাত ৮টায় ফ্লাইট,গন্তব্য প্যারিস-সেই মেয়েটির খোঁজে।

গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ সামনের রাস্তায় দুইজন মধ্য বয়সী নারি পুরুষের দিকে চোখ গেলো তার।চিনতে অসুবিধা হয়নি,তারা সেই মেয়েটির বাবামা।

ইচ্ছে হচ্ছিলো কাছে যেয়ে মেয়েটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে।কিন্তু মনের আকুলতা সামলে ­ নিয়ে সেগাড়ির গতি কমিয়ে মেয়েটির বাবা মার পিছু পিছু যেতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর সে খেয়াল করল মেয়েটির বাবা মা একটি কবর স্থানের ভেতর ঢুকছে।দম বন্ধ হয়ে আসছে ছেলেটির।গাড়ি থামিয়ে দ্রুতসে নিজেও কবর স্থানে গেলো,য েয়ে দেখতে পেল সেই মেয়েটিরছবি সম্বলিত একটি কবরে তার বাবা মা ফুল দিচ্ছে।

কবরের এক পাশে রয়েছে একটি বাক্স।

ছেলেটিকে দেখে মেয়েটির বাবা মা এগিয়ে এলো।কেমন করেএ সব হল জানতে চাইলে

তারা বলে, “ওকে আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারিসে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম।কিন্ত -ও যেতে চাইনি,ও তোমার কথা বলেছিল।বলেছিল-ত -ার ভালবাসাকে রেখে সে কিছুতেই যেতে পারবে না।ওর আসলে ক্যান্সার হয়েছিলো।

ডাক্তার -­ ­ ­­ওর মৃত্যুর দিন ঠিক করে দিয়েছিল কিন্তু এ সব তোমাকেও বুঝতেও দেই নি।ও কোনও দিনও তোমার হতেপারবে না,এ কথা জেনেই ও নিজেকে তোমার থেকে আলাদা করে নিয়েছিলো।ও মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলো- ওর ভালবাসা অবশ্যই তোমাকে ওর কাছে ফিরিয়ে আনবে”

এর পর তারা কবরের পাশের সেই বাক্সটার দিকে দেখিয়ে বললে,সম্ভবত তোমারজন্য ওটাতে কিছু আছে।

ছেলেটি বাক্স খুলে দেখে এর ভেতর সেই বারবি ডল আর একটি চিঠি।চিঠিতে লেখা রয়েছে “আমাকে ক্ষমা করো,তোমাকে কষ্ট দেওয়ার কোনও ইচ্ছাই আমার ছিল না।স্বপ্ন ছিল তোমার সাথে আমার ভবিষ্যৎ গড়ব,কিন্তু ডাক্তার আমার চলে যাবার টিকিট দিয়ে দিয়েছিল,তাই আমাকে একলা চলে আসতে হল”।

চিঠির একদম শেষ প্রান্তে লেখা ছিল-“খবরদার কাঁদবে না

কলেজের প্রথম দুষ্টু মিষ্টি ভালবাসা



রোমান্টিক প্রেমের গল্প
কলেজের প্রথম দুষ্টু মিষ্টি ভালবাসা
ঘামের একটা ধারা চিবুক বেয়ে থুতুনিতে জমা হচ্ছে।সামনে পুলিশের চেক।পেছনে গাড়ির লম্বা লাইন ধরা খেলে চলবে না। গাড়ি চেক করলেই ধরা খাব। মাথার ভিতরে মগজ গুলা তীরের বেগে ছোটাছুটি করছে।পালানোর পথ খুজতে হবে। শামুকের গতিতে সামনের দিকে একটু একটু করে এগোচ্ছি। পাচঁ মিনিতের ভেতর পুলিশের হাতে ধরা পড়তে যাচ্ছি। এদিকে আকাশও কান্না করছে বিরামহীন।  হঠাৎ ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন মনে হল। বামে একটা ছোট্ট রাস্তা বেরিয়ে গেছে। গাড়ির নাক ঘুরিয়ে ছুটিয়ে চললাম সেদিকে। মেঘের গর্জন গাড়ির গতির আওয়াজকে চাপা দিয়ে দিল। একটু নড়েচড়ে বসার সুযোগ পেলাম।

রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে এক প্যাকেট সিগারেট আর একটা লাইটার নিয়ে আবার চলতে শুরু করেছি।এর ভেতর শহর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি।এভাবে আর আধ ঘন্টা চললে গন্তব্যে পৌছে যাব।

আধ ঘন্টার আগেই পৌছে গেলাম ফাকা বাড়িটায়। স্টিয়ারিং এর সীটে বসেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল ঠোটে। কালকের পেপারে হেডলাইন রচনা করবে প্রহর। হেডলাইন হবে “অজ্ঞাত পরিচয়ের একটা মেয়ের লাশ উদ্ধার ” মেরে ফেলার আগে ধর্ষণ আর পৈচাশিক অত্যাচারের চিহ্ন একে দিব সারা শরীরে। কল্পনায় দেখতে পাচ্ছি জ্বলন্ত সিগারেটের পোড়া দাগ ফর্সা শরীরে কেমন দেখাবে?
মাইক্রোর পেছেনের ব্যাকডালা খুলে ফেললাম।এখনো জ্ঞ্যান ফিরেনাই মোহনার।হাতের কাছে বিয়ের শাড়িটা পড়ে আছে। আড়কোলে করে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলাম। এখানে বিদ্যুৎ নেই।তাই আগে থেকেই হ্যাজাকের ব্যাবস্থা করে রেখেছিলাম রণকে দিয়ে। ও জাহাজের ক্যাপ্টেন বেশিরভাগ সময় বাড়ি থাকে না। কয়েকদিন থাকার কথা বলে বাড়িটা নিয়েছি। এতক্ষনে মোহনার বাড়ির লোকেরা হন্যে হয়ে খুজছে ওকে। বিয়ের কনে বলে কথা! শেষ বারের মত দেখা করব বলে নিয়ে এসেছিলাম। বাইরে আসতেই ক্লোরোফোম মেশানো রুমালের সাহায্য ঘুমিয়ে দিয়েছি কয়েক ঘন্টার জন্য।বিছানায় শুইয়ে দিয়ে পাশেই চেয়ার পেতে বসে পড়লাম।চোখের পাতা কেমন ভারি হয়ে উঠছে…….
বখে যাওয়া সন্তান আমি।কলেজের যত রকম প্রবলেম হয় তার বেশির ভাগের মুল কারন আমি।মারামারি, মেয়েদের জালানো, সিগারেট, মাঝে মাঝে ড্রিংকস। সবটাই আমার আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এমন একটা সময় পরিচয় মোহনা নামের এই মেয়েটার সাথে। আমার প্রথম ভাল লাগা। কিন্তু সেটাকে ভাললাগার মাঝেই সীমাবদ্ধ করে রেখছি।তখনও বুঝিনি যে মেয়েটাও আমাকে পছন্দ করত। কখনো সাহস করে কথাও বলতে যায়নি ওর সাথে। হঠাৎ একদিন ও নিজেই এসে বলল।
– এই যে শুনেন…
– জি বলেন…
– আপনার নাম তো প্রহর! তাই না?
– হ্যা।কোন প্রবলেম?
– না।আমি আপনাকে ভালবাসি।
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।কি বলা উচিৎ বুঝতে পারলাম না।এই মেয়ে কি আমাকে টিজ করতেছে? না ইয়ার্কি মারছে। আশপাশে তাকিয়ে দেখি আসিফ,ইকবাল,জোহান সব কটা মুখ টিপে হাসছে।চোখ গরম দিতেই যে যার মত কেটে পড়ল….
– হ্যালো……….?
– হ্যা.. কি কি?
– কি ভাবছেন এত।?শুনতে পাননি কি বলেছি?
– ফাজলামি করছ আমার সাথে? আমাকে চেন?
– না চেনার কি আছে? কলেজের হেড অফ দ্যা বদমাশ।
– থাপ্পড় চিন মেয়ে? (যতটা ঝাড়ি দিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলি সেভাবে আওয়াজটা বের হল না।নিজের কাছেই কেমন নিরামিশ মনে হল।)
– এভাবে কথা বলছেন কেন? আপনি যেমন হন আমার প্রবলেম নেই।কিন্তু এখন থেকে একটু একটু করে চেঞ্জ হতে হবে।আজ আমার একটু কাজ আছে কাল আবার আসব….
আমার উত্তরের জন্য ও দাড়িয়ে নেই।চলে যাচ্ছে।নিজেকে কেমন বোকা মনে হচ্ছে।
ঠিক এভাবেই শুরুটা হয়েছিল।ওর এক পাশের ভালবাসা দিয়ে।নিজেকে যতই কঠিন ভাবি। ওর সামনে ঠিক ততটাই গলে যাই। চাইলেও সামলে রাখতে পারিনা। সাড়া দিয়েছি ওর প্রেমে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমার বাজে অভ্যাস পাল্টে দেওয়ার অভিজানে নেমেছে মোহনা। মাত্র ছয় মাসে সব কিছু ছেড়ে দিলাম। তবে সিগারেট টা মাঝে মাঝে লুকিয়ে খাই, সেটাও খুব কম। একদিন ধরা খেয়ে গেলাম সিগারেট সহ। সেই যে কি রিএক্ট শুরু করল। কান্না কাটি শুরু করে দিয়েছে। আমিও ওর সাথে তাল মিলিয়ে কান্না শুরু করলাম। হঠাৎ ও চোখ কুচকে আমার দিকে তাকালো….
– কি হল তুমি কেন কাদঁছো?
– তুমি কাদঁছো তাই।
– শালা ছাগল কোথাকার তুই সিগারেট কেন খাইছিস?
– সত্যি প্রমিস আর কোনদিন খাব না।
– পাক্কা?
– হুম…..
আমি আমার প্রমিস রেখেছি।তারপর আর কখনো সিগারেট ধরিনি।ভালই চলছিল সব কিছু।ভদ্রতার চাদর পরে নিয়েছি ততদিনে।হঠাৎ করেই একদিন এসে বলল বাসা থেকে বিয়ে ঠিক করেছে।পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।সুতরাং ওকে ভুলে যেতে হবে।আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা।একদিন হঠাৎ করেই এসে বলল ভালবাসি।আজ আবার বলল ভুলে যাও।মগের মুল্লুক…..

এক সপ্তাহ ধরে সময় নিয়ে একটু একটু করে ওকে বোঝালাম থাকতে পারব না ওকে ছাড়া। একটুকু গলে নি ও।হাল ছেড়ে দিলাম। যে ভালবাসবে সে এভাবে ছেড়ে যেতে পারেনা। ধরে নিলাম আমাকে ভালবাসেনি ঠকিয়েছে।টাইম মেশিনের মত হতাম যদি জীবনের লাস্ট দুই বছর ডিলিট করে দিয়ে নতুন কিছু আপলোড দিয়ে নিতাম। একা একা হাসি ঘরের ভেতর। মাঝে মাঝে কাদিঁ। আর নয় দিন পর হারিয়ে ফেলব চীরদিনের মত আমার মোহনা কে। ভাবতে ভাবতেই ড্রয়ার খুলে সিগারেটের প্যাকটা বের করলাম। যে নেই তার সাথে প্রমিস রাখার মানে কি! আগে খেতাম শখে,আর এখন খাই মোহনার উপর জমে থাকা রাগে।নাহ এভাবে নিজেকে কেন শেষ করব?
আমার জন্য তো বসে নেই।তাহলে আমি কেন নিজেকে………
সব কিছুর প্লানিং শেষ। ছুরিটা শুধু ওর গলার উপর দিয়ে চালিয়ে দিতে হবে…..
মৃদু শব্দে হালকা ঘুমটা চলে গেল।মোহনার হুশ ফিরেছে।নাহ এখনো বেচেঁ আছে ও। তারমানে এতক্ষন গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলাম। জামাটা ঘামে ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে।বুকটা কেমন অস্থির ভাবে ওঠানামা করছে। যেন ম্যারাথন এর প্রতিযোগিতা থেকে মাত্র ফিরলাম। ওর মুখের কাপড় খুলে নিলাম।আলোটা সয়ে নিতে একটু সময় লাগছে ওর। সিগারেট জ্বালিয়েছি আর একটা।
– প্রহর……..? মানে কি এসবের?
– অবাক হচ্ছো খুব?
– আজ আমার বিয়ে। সারা বাড়িতে মেহমান।বাবা মায়ের মান সম্মান থাকবেনা।আমাকে যেতে হবে…
– হা….. হা…….হা………
(আমার এই হাসির সাথে আমিও পরিচিত নই। নিজের কাছেই পৈচাশিক মনে হচ্ছে।অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মোহনা। একটা অন্য প্রহর দেখছে আজ)
– হ্যা আমিও এমন অবাক হয়েছিলাম সেই প্রথম দিন,যেদিন আমাকে প্রথম বলেছিলে ভালবাস। আর সেদিন, যেদিন ভুলে যেতে বললে। সব কিছু শেষ দিন আজ।কিন্তু আমি নানা,আজ তুমি অবাক হবে। আজই শেষ…..
– কি বলতে চাইছো তুমি?
– তনুর কথা মনে আছে?
– কোন তনু?
– ভুলে গেছ
– যাকে নিয়ে সারা দেশে এক সময় তোলপাড় হয়েছিল!
– ও হ্যা…ওকে তো ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছিল।
– একজ্যাক্টলি! কালকের পেপারেও এমন একটা নিউজ আসবে কিন্তু তোমার দুর্ভাগ্য সেটা দেখার সুযুগ পাচ্ছ না তুমি?
– কি বলতে চাও তুমি?( গলার স্বর হঠাৎ করেই মিইয়ে গেছে)
– যেটা ভাবছো তুমি সেটাই…..
– প্রহর না…….
– এত সহজে কিভাবে ছেড়ে দেই বল? যখন ইচ্ছা হল ব্যবহার করবে।ইচ্ছা মত ফেলে দেবে?
– প্রহর প্লিজ না…..
দুজনের মাঝের দুরত্ব কমে গেছে। সময়ের ব্যাপার মাত্র।
– প্রহর প্লিইইজ……

মোহনার চোখের পানি গড়িয়ে আমার হাটুর উপর পড়ল। এভাবে পারব না। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে এমন অত্যাচার করতে পারব না ওর সাথে। সারা বাড়ি খুজেও কোন নেশাজাত দ্রব্য পেলাম না। ওর ওড়না দিয়েই নিজের চোখ বাঁধলাম। এবার আর চোখের পানির কাছে হার মানতে হবে না।

বাম হাত দিয়ে ওর হাত চেপে ধরে কাছে টেনে নিয়েছি। গলার আর্তনাদ ভেসে উঠল ওর। নিজের পেশি গুলা অসাড় হয়ে যাচ্ছে। ওর কাতর কন্ঠস্বর শুনে কিছুই করতে পারব না। কানের ভেতর তুলা গুজে নিলাম। তাতেও ওর অন্তরের প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। ঠোটের কাছে নোনা স্বাধ অনুভব করছি। হবে না…….
চোখের বাধন খুলে নিচের দিকে চেয়ে আছি। আমার হাত থেকে ছাড়া পেয়েই দেয়ালের দিকে সরে গেছে ও।
চোখে রাজ্যের ভয় আর অবিশ্বাস। সিগারেট জ্বেলে চোখের পানি আড়াল করতে চাইলাম। জানি না কতটা সফল হয়েছি।ডান হাতের তালুতে জলন্ত সিগারেট টা চেপে ধরে নিভিয়ে ফেললাম। কোন কষ্টই অনুভব করিনি।
– শুধু একটা প্রশ্ন মোহনা।কেন করলে এমন?
– আ…আ….আমার কিছু করার ছিল না।হঠাৎ করেই বাসা থেকে…
– আরেহ… তুই তো কত আশ্বাস দিয়েছিলি।আমি না চাইতেই ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিলি।তাহলে এভাবে ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছিস কেন?
– আমাকে মাফ করে দাও তুমি!
– আরে যা যাহ…..মাফ করে দিলাম।যা চলে যা….ও যাবি কিভাবে শহর থেকে অনেকক দুরে আছিস।
নিজেই জানি না আমি কি করছি।ওর হাত ধরে টেনে উঠালাম।ওড়নাটাও নিজেই চাপিয়ে দিয়েছি।
– কই নিয়ে যাচ্ছ প্রহর?
– তোকে তোর বাড়ি দিয়ে আসব…
আমার নিজের ভেতর অচেনা স্বত্ত্বা বিরাজ করছে।যতটা না কষ্ট হচ্ছে নিজের জন্য তার চেয়ে বেশি হচ্ছে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে।এই মুখটাকেই তো ভালবেছিলাম…..
জানি এসব বোঝার ক্ষমতা ওর নেই। চোখের পানি ফেলা আযথা জেনেও ঝরে যাচ্ছে শুধু শুধু। গাড়ির পেছনের দরজা খুলে নিরব ভাষায় বললাম উঠতে। ওর ইতস্তত দেখে বুঝলাম বিশ্বাস করতে পারছে না। নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছে এখন এই মেয়েটাই ছিল যে আমাকে ভালবাসত! একটা ধাক্কা মেরে গাড়ির সীটে ফেললাম ওকে…..
পিন পতন নিরবতা গাড়ির ভেতরে। নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে চোখ গুলা। লুকিং মিররে মোহনার দিকে তাকালাম। আমার দিকে চেয়ে আছে। মায়া কান্না কাঁদছে। কাজল মুছে চোখের নিচটা কালি হয়ে আছে। ডান হাতটা স্টিয়ারিং হুইল থেকে বুকে উঠে গেল। ভতরটাতে পেইন হচ্ছে খুব।

বাসার সামনে গাড়ি থেমে গেল। সারা বাড়ি লাইটিং করা।কোন সোরগোল নেই।ম্লান ভাবে আলো জ্বলছে।হেডলাইট অফ করে বুঝালাম নেমে যাও। লুকিং গ্লাসে শেষ বারের মত ভালভাবে দেখে নিচ্ছি। নেমে যাওয়ার জন্য যেন কোন তাড়াহুড়ো নেই ওর। গ্লাসে তাকিয়ে দেখছে আমাকে। হয়ত একটু খানি মায়া রয়ে গেছে এখনো।
– যাও……
যেন এটা শোনার জন্য বসে ছিল।গেটের লক খোলার আওয়াজ স্পষ্ট। হুইলের উপর মাথা ঠেস দিয়ে চাপা কান্না ঠেকানোর ব্যার্থ প্রচেষ্টা করলাম। হঠাৎ সামনের ডোর খুলে গেল। মোহনা আমার পাশে উঠে বসছে। তাড়াহুড়ো করে চোখ মুছে তাকিয়েছি ওর দিকে।গাড়ির ভেতরে রাখা পানির বটল খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। আর সামলে রাখতে পারলাম না নিজেকে।যতটা জোরে পারলাম ততটাই জোরে মোহনার বাম গালে চার আংগুলের দাগ বসিয়ে দিলাম।ব্যাথায় ককিয়ে উঠল ও।
– প্রহর….
– আমাকে মুক্তি দে।চলে যা।আমার খারাপ টা দেখার জন্য বসে থাকিস না।
– এতক্ষন যখন পারনি। আর পারবা ও না।আমার কথাটা শুনো……
– বিয়ের দাওয়াত দিবি তো?
– চুপ!একদম চুপ…..তোমার কাছের ফ্রেন্ডস রা তোমার ব্যাপারে আমাকে খুব বাজে বাজে ইনফর্ম করত। নেশা আর মেয়েদের সাথে আড্ডাবাজি এসব শুনতে শুনতে পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। একদিন আমি নিজেই দেখলাম আরশার সাথে কফি খাচ্ছো। আমার বন্ধুদের সাথে সব শেয়ার করতাম। ওরা সব না জেনেই আমাকে ভুলভাল বোঝাতে শুরু করল। আর আমি কোন কিছুর বিচার না করে আমাকে যা বোঝালো তাই বুঝে তোমার থেকে দুরে সরে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাকে ভালোবাস না। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।প্লিজ মাফ করে দাও……
কথা গুলা শুধুই শুনেছি,কিছুই বুঝিনি।কারন বোঝার মত মানষিকতায় নেই আমি।
– কি হল মাফ করবেনা প্রহর?
আবারও একবার বিকৃত হাসি হাসলাম।ডান হাত দিয়ে চোখ মুছে নিয়েছি।লোনা পানির স্বাদে হাতের তালু জ্বালা করে উঠল। সিগারেটের পোড়া ক্ষত হাতে…..
– কিছু বল প্রহর।আমার কষ্ট হচ্ছে খুব।
– যাবে আমার সাথে?
– হুমমমম…..
– ভালবাসবে তো?
হু হু করে কেঁদে উঠল মেয়েটা।
– আম সরি প্রহর………
গাড়ি আবার নিজ গতিতে ছুটে চলল তার আজানা গন্তব্যে।
রাতের অন্ধকার চীরে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা দুজন।
– মোহনা?
– উমমমম……
– কতদিন থাকবে এভাবে।
– ভালবাসার শেষ দিন পর্যন্ত…
– মানে ?
– যেদিন মরে যাব সেদিনই হবে “ভালবাসার শেষ দিন “